রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এ দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘সদ্য ঘোষিত মুদ্রানীতি ব্যবসাবান্ধব নয়। দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী। এখন ক্রলিং পেগের সময় নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘টেক্সটাইল খাত ভালো নেই। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়েছে। ডলারের সংকট এ শিল্পকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গত বছর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্যাসের দাম ৮৭ শতাংশ বাড়ানো হলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, পেট্রোবাংলা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি তারা এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আমাদের আলোচনার জন্যও ডাকেনি। যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দেয়া না যায়, তাহলে আগের দামেই গ্যাস সরবরাহ করা হোক। তাতে শিল্প কিছুটা হলেও টিকে থাকতে পারবে।’
গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক মাস ধরে চট্টগ্রাম, সাভার, আশুলিয়া. গাজীপুর, আড়াইহাজার ও নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের গড় চাপ ছিল ০-২ পিএসএফের মধ্যে। ১৫ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জে বিসিকের আশপাশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অথচ গ্যাস না থাকা সত্ত্বেও মিলগুলোকে গ্যাস বিল বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে মিল বন্ধ থাকায়, উৎপাদন না হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।’
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে না পারলে টেক্সটাইল খাতে ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় হয়েছে। ২০২৩ সালে বস্ত্র খাতে কোনো বিনিয়োগ হয়নি। বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছে। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ দিতে পারছি না।’
আক্ষেপ প্রকাশ করে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘নানামুখী সংকটে গতকাল অন্তত পাঁচটি কারখানা বিক্রির বিজ্ঞাপন পেয়েছি। অথচ টেক্সটাইল খাতে ১ লাখ ডলারের গ্যাস দিলে ৪০ লাখ ডলারের রফতানি আয় করা সম্ভব। মোট গ্যাসের ১৩ শতাংশ বাসাবাড়িতে এবং ৬ শতাংশ সিএনজি স্টেশনে ব্যবহার করা হয়। সেই গ্যাসও রেশনিং করে শিল্পে দেয়া হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সম্ভব। বর্তমানে অনেক ক্রেতা সংকটের কারণে অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ যথাসময়ে অর্ডার ডেলিভারি করা সম্ভব হবে কিনা সেই উদ্বেগ থেকে যায়।’
মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সদ্য ঘোষিত মুদ্রানীতি ব্যবসাবান্ধব নয়। ক্রলিং পেগের মাধ্যমে আমাদের রফতানি আয়কে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এতে আগামী দিনে ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঠকব। ক্রলিং পেগ করতে গিয়ে আর্জেন্টিনায় মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশ বেড়ে গেছে।’
সরকারের প্রতি ক্রলিং পেগ থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা জানিয়ে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘ক্রলিং পেগ সেই দেশেই হয়, যে দেশে অর্থনীতি স্ট্যাবল থাকে। আমাদের ডলার যখন দশ বছর ৮০ থেকে ৮২-তে স্ট্যাবল ছিল, আমাদের তখন রিজার্ভ ছিল অনেক বেশি। রফতানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের ব্যালান্স ছিল। কিন্তু এখন সমুদ্র উত্তাল, অর্থনীতি উত্তাল। বিশ্ব রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন। জ্বালানির বাজার উত্তাল। রেড সিতে যুদ্ধ লেগেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো সমাধান নেই। সব মিলিয়ে এটা ক্রলিং পেগের সময় নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি আজকের দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের শাসন দায়ী। রফতানির ডলারের দাম ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার সেই ডলারই কিনতে ১২৩ টাকা লাগছে। এই বিশাল পার্থক্যের কারণে রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ লুণ্ঠিত ঋণ এবং খেলাপি ঋণ আলাদা করে আগামীতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।